দ্রুত ডোপামিন vs দেরিতে ডোপামিন – কোনটা আমাদের জন্য উপকারী ?

আমরা প্রতিদিন এমন অনেক কাজ করি, যা আমাদের ব্রেনে ডোপামিন নামক “ফিল-গুড” হরমোন তৈরি করে। তবে, সব ডোপামিন লাভ এক নয়। কিছু ডোপামিন আসে খুব দ্রুত এবং সাময়িক আনন্দ দেয়, আবার কিছু আসে ধীরে ধীরে, কিন্তু দেয় দীর্ঘমেয়াদি আত্মতৃপ্তি ও মানসিক শক্তি।

এই আর্টিকেলে আমরা জানবো—
– দ্রুত ডোপামিন লাভের পেছনে থাকা ফাঁদ।
– ধীরে ডোপামিন লাভের উপকারিতা।
– আজ থেকেই আপনার ঠিক কি করা উচিত?

দ্রুত ডোপামিন লাভ : আনন্দের ফাঁদ।

যে কাজগুলো করলে দ্রুত ডোপামিন পাওয়া যায়, যেমন শর্ট ভিডিও দেখা, ফাস্টফুড খাওয়া, সুগার জাতীয় খাবার খাওয়া, গেমস খেলা, মাদকদ্রব্য বা সিগারেট খাওয়া, সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকা ইত্যাদি কাজগুলো করার ফলে আমাদের অজান্তেই কিছু ব্যাড হ্যাবিট তৈরি হতে থাকে। যেমন : 

– মস্তিষ্কে যে কোন কাজের ফলাফল খুব দ্রুত পেতে চায়। 

– আমাদের ধৈর্য শক্তি কমে যায়। মনে হয়, এটা এখনই চাই, সাথে সাথে চাই। 

– পরিশ্রমের কাজ করতে ইচ্ছা করে না। 

– মস্তিষ্ক কোন কাজে বেশিক্ষণ ফোকাস ধরে রাখতে পারে না। 

– ধীরে ধীরে সাধারণ কাজও বিরক্তিকর লাগে।

– জীবন হয়ে যায় “কেবল মজা চাই, কষ্ট চাইনা” টাইপের।

– মানসিকভাবে আমরা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে আর কোন কাজে কনফিডেন্স পাইনা। 

– ক্যারিয়ার ও জীবনের অগ্রগতি থেমে যায়। 

সুতরাং এখন থেকে আপনি যখন মোবাইলে শর্ট ভিডিও দেখবেন বা অন্য কোন উপায়ে দ্রুত ডোপামিন নিবেন, তখন এটা অন্তত মাথায় রাখবেন, আপনি এখন শুধুমাত্র শর্ট ভিডিও দেখে মজা নিচ্ছেন না, বরং একই সাথে আপনি আপনার ব্রেনকে ধ্বংসের পথে ট্রেইনআপও করছেন!!! 

ধীরে ডোপামিন লাভ : গঠনমূলক আনন্দ।

যে কাজগুলো করলে আমরা ধীরে ধীরে ডোপামিন লাভ করি বা দেরিতে ডোপামিন পাই, যেমন পড়াশোনা করা, নতুন কোনো স্কিল শেখা, কোন সমস্যা সমাধানের জন্য গভীর চিন্তাভাবনা  করা, ব্যায়াম করা ইত্যাদি কাজগুলো করতে থাকলে আমাদের ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু গুড হ্যাবিট তৈরি হতে থাকে। যেমন : 

– ধীরে ধীরে ধৈর্য শক্তি বৃদ্ধি পায়। 

– পরিশ্রমী কাজ করতে আর বিরক্তিকর লাগেনা। 

– ছোট ছোট সাধারণ কাজেও মস্তিষ্ক আনন্দ অনুভব করে। 

– মস্তিষ্কের ফোকাস ক্ষমতা বেড়ে যায়। 

– ধীরে ধীরে সহ্যক্ষমতা বা সহনশীলতা বাড়তে থাকে। 

– জীবনে বড় বড় অর্জন আসতে থাকে, ফলে কনফিডেন্সও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। 

অর্থাৎ আপনি যদি ধীরে ধীরে ডোপামিন দেয়, এমন কাজগুলো করতে অভ্যস্ত হন, তাহলে আপনার অজান্তেই ওপরে উল্লেখিত উপকার গুলো পেতে থাকবেন। 

আশা করি, আপনি এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন, কোনটা আপনার জন্য ভালো আর এখন থেকে আপনাকে ঠিক কি করতে হবে? রাইট? 

আপনি পুরো বিষয়টি এভাবে মনে রাখতে পারেন, 

“যা তাড়াতাড়ি আনন্দ দেয়, তা ধ্বংস করে।
যা ধীরে ধীরে আনন্দ দেয়, তা গড়ে তোলে।”

তাই এখন থেকে আপনি যখন মোবাইলে সময় কাটাবেন বা অন্য যেকোনো কাজ করবেন, তখন নিজেকে জিজ্ঞেস করুন :

➠ আমি কি এই কাজের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তুলছি, নাকি ধ্বংস করছি?

এ্যাকশন-স্টেপ :

আজ থেকেই অন্তত একটি এমন কাজ বাদ দিন, যা আপনাকে “ইন্সট্যান্ট আনন্দের” নামে “দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির” দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর সেই জায়গাটিকে প্রতিস্থাপন করুন এমন একটি ইতিবাচক অভ্যাস দিয়ে, যা আপনাকে সত্যিকারের আনন্দ ও মানসিক শান্তি এনে দেবে।

“একটি খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করুন, একটি ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন—এভাবেই শুরু হোক আপনার পরিবর্তনের যাত্রা।”

আপনার ভবিষ্যতের শক্তিশালী “আপনি” আজকের এই ক্ষুদ্র সিদ্ধান্ত থেকেই শুরু হতে পারে। এখন সিদ্ধান্ত আপনার…

12 thoughts on “দ্রুত ডোপামিন vs দেরিতে ডোপামিন – কোনটা আমাদের জন্য উপকারী ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।